লাকী আক্তার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক শারফিন (শাহ আরেফিন) টিলা এখন অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় সবুজে ঘেরা এই টিলাটি বর্তমানে পাথর খেকোদের তাণ্ডবে বিশাল গর্ত আর বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক দিনে এই টিলা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দুই বছর আগেও যেখানে যানবাহন নিয়ে ভক্তরা মাজারে যেতে পারতেন, এখন সেখানে কবরস্থান ও মসজিদ ছাড়া টিলার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০০৯ সালেই এই টিলাটিকে ‘মরা কঙ্কাল’ হিসেবে অভিহিত করেছিল, কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশকেও এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো যায়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, চিকাডহর মৌজার ১৩৭ একর ভূমির এই টিলাটি রক্ষায় প্রশাসন গত দেড় বছরে অর্ধশতাধিক অভিযান চালালেও পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো আভিযানিক দলের ওপর অন্তত ৯ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং একাধিকবার আসামি ছিনতাই করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ মার্চ পুলিশের কাছ থেকে দুর্ধর্ষ আসামি কালা মিয়াকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পাথর উত্তোলনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও চক্রের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে বিএনপির উপজেলা সাবেক সভাপতি সাহাব উদ্দিন (যিনি পদ হারিয়েছেন), যুবলীগ নেতা ফয়জুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা হুশিয়ার আলীর অনুসারীরা রয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ থানার ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি শারফিন টিলা রক্ষায় সেখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আধা সরকারিপত্র (ডিও) দিয়েছেন এবং শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা মনে করেন, কেবল অভিযান নয়, স্থায়ী কার্যকর উদ্যোগ ও গণসচেতনতা ছাড়া এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া ও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও মামলা হলেও মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
Leave a Reply